ভুবনেশ্বর কুমারের দুর্ধর্ষ বোলিং এবং হার্দিকের ফিনিশিং টাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে যাত্রা শুরু ভারতের

INDIA VS PAKISTAN
INDIA VS PAKISTAN. ( iamge source: BCCI )

ভুবনেশ্বর, হার্দিক এবং অর্শদীপের দুর্ধর্ষ পাররম্যান্সে এশিয়া কাপের মঞ্চেই বিশ্বকাপের প্রতিশোধ টিম ইন্ডিয়ার। পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপে যাত্রা শুরু করল ভারত। যদিও লড়াইটা চিল হাড্ডহাড্ডি, কিন্তু শেষপর্যন্ত হাসি ফুটল রোহিত শর্নার মুখেই। যদিও এদিন ভারতের জয়ের প্রধান কারিগড় কিন্তু ভুবনেশ্বর কুমার। বল হাতে একাই এদিন পাক ব্যাটিং লাইনআপকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিলেন তিনি। আর তাতেই যে টিম ইন্ডিয়ার জয়ের  ভিতটা পাকা হয়ে গিয়েছিল তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। শেষ মুহূর্তে হার্দিক ও রবীন্দ্র জাদেজার ৫০ রানের পার্টনারশিপেই ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।

গতবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছেই ১০ উইকেটে হারতে হয়েছিল ভারতীয় দলকে। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে এশিয়া কাপের মঞ্চেই সেই হারের বদলা নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল ভারতীয় দল। সেখানেই শুরুটা করে দিয়ে যান ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া এবং আর্শদীপ সিং-রা। আর শেষটা করেন হার্দিক পান্ডিয়া। তাও আবার নিজের স্টাইলেই। জাদেজার সঙ্গে ৫০ রানের পার্টনারশিপও গড়লেন আবার ওভার বাউন্ডারি মেরে ম্যাচও জেতালেন তিনি। আবারও একবার নিজেকে প্রমাণ করলেন হার্দিক পান্ডিয়া।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র ২৬ রান দিয়ে একাই চার উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার

এদিন শুদু ভারতীয় দলের ঘিরে দাঁড়ানোই নয়, সেইসঙ্গে ভারতীয় দলের টপ অর্ডারের পারফরম্যান্সের দিকেও নজর ছিল সকলের। রোহিত থেকে লোকোশ রাহুল কিন্তু এদিনও চূড়ান্ত ব্যর্থই হয়েছেন। বিরাট কোহলি ৩৫ রান পেলেও, তাঁকেও কিন্তু পুরনো ছন্দে এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে ম্যাচ জিতিয়েই  মাঠ ছাড়েন রবীন্দ্র জাদেজা ও হার্দিক পান্ডিয়া।

টস জিতে এদিন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। ম্যাচ শুরুর আগেই ভারতের প্রথম একাদশে যে বেশ কিছু চমক থাকতে পারে তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। তেমনটাই হয়েছিল। ঋষভ পন্থকে না রেখেই এদিন প্রথম একাদশ বেছে নিয়েছিল ভারতীয় দল। সুযোগ পেয়েছিলেন অর্শদীপ সিংও। শুরু থেকেই এদিন কিন্তু ভারতের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের ওপেনিং জুটিকে যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি ফেরানোরই পরিরকল্পনা ছিল টিম ইন্ডিয়ার।

আর সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত করেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমকে ১০ রানে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাখর জামনকে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখিয়ে দেন আভেশ খান। মহম্মদ রিজওয়ান খানিকটা চেষ্টা চালালেও, ৪৩ রানেই থেমে যেতে হয় তাঁকে। ভারতের তারকা অল রাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার বলেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।

আর বল হাতে বাকি সময়টা একাই দাপট দেখান ভুবনেশ্বর কুমার। মাত্র ২৬ রান দিয়ে তিনি একাই নেন ৪ উইকেট। তিন উইকেট পান হার্দিক পান্ডিয়া এবং ২ উইকেট নেন তরুণ বোলার অর্শদীপ সিং। মাত্র ১৪৭ রানেই শেষ পাকিস্তান। ভারতের সামনে তখন সহজ লক্ষ্যয কিন্তু পাকিস্তানও যে ছেড়ে কথা বলার দল তা এদিন মাঠে নামা থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছিল।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই কেরিয়ারের শততম টি টোয়েন্টি খেললেন বিরাট কোহলি

তরুণ বোলার নাসিম শাহ এদিন শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। শুরুতেই ০ রানে সাজঘরে ফেরান লোকেশ রাহুলকে।  এরপরই পিচে আসেন বিরাট কোহলি। তাঁর দিকেই কিন্তু এদিন তাকিয়ে ছিল সকলে। রোহিত শর্মার সঙ্গে ৪৯ রানের পার্টনারশিপ করলেও, রোহিত ১২ রানে ফিরতেই ফের চাপ ভারতীয় দল। এরপরই ৩৫ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বিরাট কোহলিও। ভারতের ওপর তখন চাপ ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। ব্যর্থ হন সূর্যকুমার যাদব।

ব্যাটে  ও বোলিংয়ে দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্ত দেখিয়ে ম্যাচের সেরা হার্দিক পান্ডিয়া

লসেই জায়গা থেকেই রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ার কাজটা শুরু করেন হার্দিক পান্ডিয়া। পাকিস্তান চাপ বাড়ালেও, হার্দিকের সৌজন্যে ক্রমশই ম্যাচের রাশ ভারতের হাতে আসতে থাকে। জাদেজা এবং হার্দিকের ৫ রানের পার্টনারশিপেই এদিন ম্যাচের ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়ে যায়। আর ১৮ নম্বর ওভারে হার্দিকের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স পাকিস্তানের সমস্ত আশা শেষ করে দেয়। শেষ ওভারে ভারতের জিততে দরকার তখন ৭ রান। জাদেজা ফিরে যান। তাতে অবশ্য খুব একটা সমস্যা হয়নি। দু বল বাকি থাকতেই ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করে দিন হার্দিক পান্ডিয়া।

close whatsapp