রাজাপক্ষের ৭১ ও হাসারঙ্গার এক ওভারে ৩ উইকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ার সেরা শ্রীলঙ্কা

Wanindu Hasaranga
Wanindu Hasaranga. (Photo by Francois Nel/Getty Images)

ভানুকা রাজাপক্ষের ৭১ রানের ইনিংস এবং ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গার এক ওভাবে মহম্মদ রিজওয়ান ও আসিফ আলির উইকেট। ম্যাচের ভাগ্য তখনই নির্ধারণ করে দিয়েছিল। পাকিস্তানকে হারিয়ে দীর্ঘ ৯ বছর পর এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। দেশের চূড়ান্ত খারাপ অবস্থা। আর্থিক মন্দার জেরে এশিয়া কাপও দেশের বাইরে চলে গিয়েছিল। চ্যালেঞ্জটা অনেক কঠিন ছিল শ্রীলঙ্কার সামনে। দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে হারিয়ে এশিয়ার সেরার শিরোপা মাথায় তুললেন দাসুন শনাকারা।

এশিয়া কাপ শুরু হওয়ার আগে এই শ্রীলঙ্কাকেই সকলে আন্ডারডগের তকমা দিয়েছিল। শুরুতে  প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানের কাছে হারের পর তাদের ভবিষ্যত্ নিয়েও অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছিল। তারপর থেকেই যেন বদলে গিয়ছিল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের শরীরি ভাষা। বাংলাদেশকে হারানো দিয়ে এশিয়া কাপের মঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটা শুরু করেছিল তারা। রবিবার সেই শ্রীলঙ্কার হাতেই এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ট্রফিটা উঠল। ক্রিকেট বিশ্বে যেন উঠে এল এক নচুন শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানকে হারিয়ে ষষ্ঠবার এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালের লড়াইয়ে অনেকেই তাদেরকে পিছিয়ে রেখেছিল। কিন্তু টিম গেমে যে তারা সকলের থেকে অনেকটাই এগিয়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ৫৭ রানে ৫ উইকেট থেকে ভানিরকা রাজাপক্ষের ৭১ রানের বিধ্বংসী লড়াইটা যেমন সকলের নজর কে়ড়েছিল।তেমনই বল হাতে ১৬ নম্বর ওভারে ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গার ম্যাচ ঘোরানো সেই স্পেলটা। পাকিস্তানের তিন উইকেট এক ওভারে তুলে নিয়ে সেই সময়ই ম্যাচের ভবিষ্যতটা পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানকে রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের নতুন চ্যাম্পিয়নদের নাম শ্রীলঙ্কা।

এই ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে অনেকেই টস ফ্যাক্টর নিয়ে কথা বলছিলেন। হব নাই বা কেন, এখনও পর্যন্ত এশিয়া কাপের মঞ্চে টস জিতে যারা রান তাড়া করেছে সেই দলই সাফল্য পেয়েছিল। এই মিথটা ভেঙেই এশিয়া কাপে চমক দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যটা প্রস্তুত করে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। টস জিতে এগিন এদিন শ্রীলঙ্কাকেই প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠিয়েছিলেন বাবর আজম। ম্যাচের ৯ ওভার পর্যন্ত কিন্তু ম্যাচের রাশ ছিল পাকিস্তান বোলারদের দখলেই।

৫৮ রানের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়ে সাজঘরে ফিরে গিয়েছিল। কুশল মেন্ডিস ০ রানে সাজঘরে ফেরেন। ব্যর্থ হতে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে নিসাঙ্কা, গুনাথিলকা এবং ডিসিলভাদের। এবারের এশিয়া কাপে বেশ কয়েকটি ম্যাচেই বনুকা রাজাপক্ষে শ্রীলঙ্কার ত্রাতার ভূমিকা নিয়েছিলেন। এদিনও সেই একই কাজ করলেন তিনি। ব্যাট হাতে একাই ধীর ধীরে রান এগোনো শুরু। মাঝে কিছুক্ষণ ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা তাঁকে সঙ্গ দিয়েছিল। কিন্তু রাজাপক্ষেকে আটকানো এদিন অসম্ভব ছিল। তাঁর ৪৫ বলে ৭১ রানের ইনিংসটি জুড়ে রয়েছে ৬টি চার ও ৩টি োভার বাউন্ডারি।

৩৪ রান দিয়ে এদিন একাই ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন মদুশঙ্কা

শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হয় ১৭০ রানে। এবার পরীক্ষাটা ছিল শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামনে। প্রথম ওভারেই মদুসঙ্কার একের পর এক অতিরিক্ত রান। সেই ওভরে তিনি দেন ১১ রান। শ্রীলঙ্কার  খারাপ ওভার বলতে এটুকুই। এরপর থেকেই ছিল দাপুটে বোলিং পারফরম্যান্স। ৫ রানে বাবর আজমকে ফেরান মদুসঙ্কাই। ফাখর জামনও তাঁর বলেই শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেছলেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কা পুুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছিল না। কারণ ক্রিজে দাঁড়িয়েছিলেন মহম্মদ রিজওয়ান। এদিনও অর্ধশতরান করেন তিনি। ম্যাচ তখনও পুরোপুরি শ্রীলঙ্কার হাতে যায়নি।

১৬ ওভারের মাথায় বোলিংয়ে আসেন ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা। গত ম্যাচেও পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছিলেন তিনি। এদিনও তার অন্যথা হল না। তাঁর এক ওভারেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েগেল।  মহম্মদ রিজওয়ানকে ৫৫ রানে ফেরালেন তিনি। এরপরই আসিফ ও খুশদিল শাহও হাসারঙ্গার শিকার। সেইসঙ্গেই এশিয়া কাপের ট্রফিও নিশ্চিত করে ফেলে শ্রীলঙ্কা। আন্ডারডগ তকমা নিয়ে শুরু করে এশিয়ার সেরা হয়ে উঠল শ্রীলঙ্কা।

close whatsapp