পরিবর্ত হিসাবে বেঙ্গালুরুতে সুযোগ পাওয়া রজত পাতিদারের ব্যাটেই মরসুমের দ্রুততম সেঞ্চুরী

Rajat Patidar
Rajat Patidar. (Photo Source: twitter/ipl)

আইপিএল ভাগ্য বদলের মঞ্চ। সত্যিই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বনাম লখনউ সুপার জায়ান্টস ম্যাচে ফের একবার যেন সেই কথা প্রমাণ হয়ে গেল। পরিবর্ত ক্রিকেটার হিসাবে বেঙ্গালুরু শিবিরে আসা রজত পাতিদার বুধবার গোটা ইডেনের নায়ক। দুই দলের তারকাদের ভিড়ে এদিন নতুন তারকা হিসাবে উত্থান হল রজত পাতিদারের। চলতি আইপিএলের মঞ্চে দ্রুততম সেঞ্চুরী করে রেকর্ড গড়লেন মধ্যপ্রদেশের রজত পাতিদার। ছাপিয়ে গেলেন তাঁরই প্রতিপক্ষ শিবিরে থাকা লোকেশ রাহুলকে।

গতবারের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শিবিরে মাত্র চার ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার রজত পাতিদারকে দলে নেয়নি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শিবির। কিন্তু একেই বোধহয় বলে ভাগ্য। প্রথমে তাঁকে না নেওয়া হলেও, প্রতিযেগিতা শুরুর পরই পরিবর্ত ক্রিকেটার হিসাবে ফের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শিবিরে ডাক পান এই ক্রিকেটার। আর সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই এবার নিজেকে প্রমাণ করার লড়াইটা শুরু করেছিলেন।

লখনউয়ের বিরুদ্ধে ৫৪ বলে ১১২ রানের ইনিংস খেলেন রজত পাতিদার

কিন্তু রজত পাতিদারের আসল পারফর্ম্যান্সটা বোধহয় বাকি ছিল বেঙ্গালুরুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্যেই। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে যখন তাবড় তাবড় তারকারা ব্যর্থ হয়ে সাজঘরে ফিরলেন, সেই সময় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শিবিরের ত্রাতা হয়ে উঠলেন এই অনামী রজত পাতিদার। ইডেন গার্ডেন্সেই এবারের আইপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরীর রেকর্ড গড়লেন রজত পাতিদার। মাত্র ৪৯ বলে শতরান করলেন তিনি। আর রজতের ব্যাট থেকে এমন ইনিংস দেখার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তোলপাড়। শুভেচ্ছা বার্তার ঢল নেমেছে।

প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে বিশেষজ্ঞরা সকলেই, এদিন রজত পাতিদারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সুযোগ পাওয়ার পর থেকে এমন একটা সুযোগেরই হয়ত অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। আর সেটাই করে দেখাতে পারলেন। ঐতিহ্যের ইডেন গার্ডেন্সে দাঁড়িয়েই কেরিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরী যেমন করলেমন, তেমনই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের জয়ের রাস্তাটাও কার্যত পাকা করে দিলেন তিনি।

এদিন ফাফ ডুপ্লেসি ফেরার পরই মাঠে আসেন রজত পাতিদার। বিরাট কোহলির সঙ্গে প্রথমে পার্টনারশিপ গড়ার কাজটা শুরু করেন। তিনি থাকলেও বিরাট, ম্যাক্সওয়েলরা এদিন তাড়াতাড়িই সাজঘরে ফিরে যান। ৮৬ রানের মধ্যে তিন উইকেট খুইয়ে বেঙ্গালুরু তখন রীতিমত চাপে। দীনেশ কার্তিকের সঙ্গে সেই জায়গা থেকে পার্টনারশিপ গড়ার কাজটা শুরু করে দেন তিনি। আর সময় যত এগোতে থাকে, ততই এদিন ভয়ঙ্ক হয়ে উঠতে থাকেন রজত পাতিদার।

৪৯ বলে সেঞ্চুুরী করে রেকর্ড গড়েন তিনি। তাও আবার ছয় হাকিয়ে কেরিয়ারের প্রথম শতরান। ৫৪ বলে ১১২ রানের ইনিংস খেলেন এদিন রজত পাতিদার। তাঁর গোটা ইনিংস জুড়ে রয়েছে ১২টি চার এবং ৭টি ওভার বাউন্ডারি। বেঙ্গালুরু শিবিরের নায়কের নাম যে এদিন রজত পাতিদার তা হয়ত আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

close whatsapp