হায়দ্রাবাদের দলগত প্রয়াসের সামনে ব্রেক কষতে বাধ্য হল দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলা গুজরাত টাইটান্স

চারটি ছক্কা মেরে ৫৭ রান করে দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন উইলিয়ামসন

Gujarat Titans vs Sunrisers Hyderabad
Gujarat Titans vs Sunrisers Hyderabad. (Photo Source: IPL/BCCI)

আইপিএলে প্রথম হারের স্বাদ অনুভব করল গুজরাত টাইটান্স। সৌজন্যে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দলগত প্রয়াস। বোলিং বা ব্যাটিং কোন জায়গাতেই নির্দিষ্ট একটি পারফর্ম্যান্সের দিকে আঙুল রেখে বলা যাবে না যে এই পারফর্ম্যান্সই ম্যাচ জেতালো হায়দ্রাবাদকে। ব্যাটিংয়ে প্রত্যেকেই অল্পবিস্তর অবদান রাখলেন। সেট হয়ে যাওয়া এসআরএইচ অধিনায়ক শেষের দিকে আউট হয়ে যেতে নিকোলাস পুরান ১৮ বলে ৩৪ রান করে দলকে লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যান।

তার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মা ও কেন উইলিয়ামসন দুজনেই সাবধানে শুরু করেন এবং প্রথম তিন ওভারে একটিও বাউন্ডারি ছিল না সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ইনিংসে। কিন্তু সেখান থেকে প্রথমে অভিষেক (৩২ বলে ৪২) আক্রমণাত্মক হতে শুরু করেন লকি ফার্গুসনের প্রথম ওভারে চারটি বাউন্ডারি মেরে। উইলিয়ামসন তাঁর প্রথম ২৭ বলে মাত্র ২৫ করেছিলেন।

এসআরএইচ তাদের দলের হয়ে পাঁচ বছর খেলা রশিদ খানের বিরুদ্ধে সামলে খেলছিল। যদিও অভিষেক তাঁর একটি শর্ট পিচ বলে ছয় মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। তিনে ব্যাটিং করতে নামা রাহুল ত্রিপাঠী স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে তিনি ১১ বলে ১৭ রান করেন।

এরপর উইলিয়ামসন তাঁর আগ্রাসী মেজাজ দেখানো শুরু করেন। হার্দিক পান্ডিয়ার একটি ওভারে পরপর দুটি ছয় মারেন। তারপর ফার্গুসন তাঁর তৃতীয় ওভারে বোলিং করতে এলে উইলিয়ামসন একটি ছয় ও একটি চারের সাহায্যে হাফ সেঞ্চুরি করেন। হার্দিকের বলে যখন তিনি ৪৬ বলে ৫৭ করে আউট হচ্ছেন ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় দখলে এনে ফেলেছে হায়দ্রাবাদ।

রান পেলেও চেনা মেজাজে দেখালো না হার্দিক পান্ডিয়াকে

এর আগে সন্ধ্যাবেলায় প্রথম ইনিংসে টস জিতে বোলিং করতে নেমে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বোলাররা অনিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও গুজরাতের ব্যাটাররা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় রান তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। ভুবনেশ্বর কুমার প্রথম ওভারেই দুবার ওয়াইডসহ চার দেন। পরে একই দোষ করেন উমরান মালিকও। ওয়াইডেই মোট ২০ রান খরচ হয়ে যায়।

যদিও অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এসআরএইচ নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলতে থাকে। ফর্মে থাকা শুবমান গিল ভুবনেশ্বরের বোলিংয়ে ৭ রানে আউট হন। সেই আউটটি যদিও মনে রাখা হবে রাহুল ত্রিপাঠীর ক্যাচের জন্য। পুরো পাওয়ারপ্লে জুড়ে ব্যাটিং করা ম্যাথিউ ওয়েড (১৯ বলে ১৯) দ্রুত গতিতে রান তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। ৮ ওভারে ৬৪/৩ অবস্থা থেকে ডেভিড মিলার ও হার্দিক পান্ডিয়া পার্টনারশিপ গড়ে শুরু করেন। 

হার্দিক এইডেন মার্করামের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বলের নিরিখে ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ১০০টি আইপিএল ছক্কায় পৌঁছলেও তাঁকে তাঁর পরিচিত ধ্বংসাত্মক মেজাজে দেখা যায়নি। তিনি শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন। এটি হার্দিকের মন্থরতম আইপিএল হাফ সেঞ্চুরি। মিলার ১২ রানে আউট হতেই তরুণ অভিনব মনোহর হার্দিককে ভালো সঙ্গ দেন। যদিও অভিনবর ২১ বলে ৩৫ রানের ইনিংসটিতে তিনবার তাঁর ক্যাচ ফেলেন তিন ভিন্ন ফিল্ডার। 

সানরাইজার্সের বোলারদের মধ্যে ওয়াশিংটন সুন্দর (৩ ওভারে ১৪ রান) ও টি নটরাজন (৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট) ভালো বোলিং করেছেন। 

আইপিএলের ২১তম ম্যাচের নানা ঘটনাকে ঘিরে টুইটার যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখালো

close whatsapp