অশ্বিনের বিরুদ্ধে কার্তিকের পরিমিত ঝুঁকিই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট, মত প্রাক্তন অজি স্পিনারের

২৩ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকা কার্তিক ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন

Dinesh Karthik
Dinesh Karthik. (Photo Source: IPL/BCCI)

প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার ব্র্যাড হগ রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বিরুদ্ধে পরিমিত ঝুঁকি নিয়ে দীনেশ কার্তিক যেভাবে আরসিবি-র পক্ষে খেলা পরিবর্তন করেছিলেন তা ব্যাখ্যা করেছেন। কার্তিক যখন ক্রিজে এসেছিলেন তখন স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ৮৭ এবং তিনি ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম কিছু ডেলিভারি দেখে খেলেন। পরের ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিন আক্রমণে আসতেই কার্তিক সরাসরি আগ্রাসী চেহারায় অবতীর্ণ হন।

দ্রুত গতিতে রান করেন প্রয়োজনীয় রান রেট কমিয়ে আনেন এবং ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে দেন তাঁর দলের দিকে। ডানহাতি এই ব্যাটার শাহবাজ আহমেদের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ৩২ বলে ৬৭ রানের জুটি গড়েন এবং সেই পার্টনারশিপটিই দুটি দলের মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দেয়।

৩৬ বছর বয়সী ব্যাটার ইতোমধ্যেই পরপর দুটি আইপিএল ম্যাচে তাঁর ফিনিশিং দক্ষতা দেখালেন এবং অতীতে ভারতের হয়েও বেশ কয়েকবার তাঁকে সাফল্যের সঙ্গে ম্যাচ শেষ করে আসতে দেখা গিয়েছিল। যদিও, কেকেআর-এর হয়ে গত বছর তাঁর একেবারেই ভালো আইপিএল কাটেনি এবং কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে তাঁকে ধরে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

আইপিএল ২০২২-এর মেগা নিলামে এই উইকেকিপার-ব্যাটারকে আরসিবি বাছাই করেছিল এবং তাঁর প্রতি দেখানো আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনটি ম্যাচেই। তিন ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে একটি ম্যাচেও আউট হননি দীনেশ। রাজস্থান ম্যাচে মাত্র ২৩ বলে ৭টি চার ও ১টি ছয় মেরে অপরাজিত ৪৪ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে আনেন কার্তিক।

অশ্বিনের ওভারটি ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল: ব্র্যাড হগ

যখন মনে হচ্ছিল রাজস্থান অনায়াসে ম্যাচ থেকে দুই পয়েন্ট তুলে নেবে তখন কার্তিক তাঁর তামিল নাড়ুর সতীর্থ আর অশ্বিনকে আক্রমণ করেন এবং অফ-স্পিনার সেই ওভারে ২১ রান দেন। পিচের স্পিন-বান্ধব অবস্থাকে নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করেন কার্তিক। কার্তিক যেভাবে নিরাপদ ঝুঁকি নিয়ে লক্ষ্য তাড়া করেছেন তা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন হগ। বাকিদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ব্যাটিং করলেও কার্তিক যেভাবে ১৭তম ওভারে রাজস্থানের সেরা বোলার যুজবেন্দ্র চাহালের বিরুদ্ধে কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে শান্তভাবে ওভারটি কাটিয়ে দিয়েছিলেন তারও প্রশংসা করেছেন কার্তিক। 

“১৪তম ওভারে অশ্বিনের বিরুদ্ধে দীনেশ কার্তিকের পরিমিত ঝুঁকি নিয়ে ২০ রান তোলা আরআর-এর মনোবল ভেঙে দিয়েছিল। স্পিন-বান্ধব উইকেটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং ম্যাচ আপ ছিল। #RRvRCB,” ব্র্যাড হগ টুইট করেছেন।

আরসিবি এখন পরপর দুটি ম্যাচ জিতেছে এবং পরের ম্যাচে একাদশে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ফলে দলের আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৯ই এপ্রিল পুনের এমসিএ স্টেডিয়ামে তারা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে খেলবে।

close whatsapp