শ্রেয়স, বুমরা ও অশ্বিনের দাপটে ৩ দিনেই হোয়াইট ওয়াশ সম্পূর্ণ টিম ইন্ডিয়ার, ২৩৮ রানে জিতল ভারত

India vs Sri Lanka
India vs Sri Lanka. (Photo Source: Twitter)

শ্রেয়স আইয়ারের দুর্ধর্ষ দুটো ইনিংস জয়ের রাস্তাটা আগেই তৈরি করে দিয়েছিল। আর সেই রাস্তাতে হেঁটেই জসপ্রীত বুমরাহ ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন ভারতের কাঙ্খিত জয়টা এনে দিলেন। মোহালীর পর বেঙ্গালুরুতেও তিন দিনেই শেষ ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্ট। ঘরের মাঠে দিন-রাতের টেস্টে জয়ের ধারা অব্যহত রেখেই এগিয়ে চলেছে টিম ইন্ডিয়া।  দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ২৩৮ রানে হারাল ভারত। সেইসঙ্গেই পূরণ হল রোহিত শর্মার স্বপ্নও। ডিনারের আগেই শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ করে দিল ভারত। মাত্র ২০৮ রানেই শেষ শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেই টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে অভিষেক হয়েছিল রোহিত শর্মার। অধিনায়কের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত একটিও ম্যাচে হারেননি রোহিত শর্মা। টি টোয়েন্টি থেকে একদিন সব জায়গাতেই প্রতিপক্ষকে হোয়াইট ওয়াশ করার রেকর্ড গড়েছেন রোহিত শর্মা। বাকি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে সেই রেকর্ড গড়ার। এদিন শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেই স্বপ্নটাও পূরণ করলেন ভারতের নতুল টেস্ট অধিনায়ক।

শ্রীলঙ্কাকে ২০৮ রানে শেষ করে দিল ভারত

তবে ভারতের ম্যাচ জয়ের নায়ক অবশ্যই শ্রেয়স আইয়ার। দুই ইনিংসেই তাঁর দুর্ধর্ষ ব্যাটিং শুধু ভারতকে এগিয়েই দেয়নি, টিম ইন্ডিয়ার জয়ের রাস্তাটাও তৈরি করে দিয়েছিল। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও শ্রীলঙ্কার সামনে ছিল রানের পাহাড়া। জিততে হলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হত ৪৪৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছিল, তখন তাদের  হাতে ছিল আড়াই দিন। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেননি তারা। যদিও অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে চেষ্টাটা চালিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার কেউ ছিলেন না এদিন ক্রিজে।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিনই ভারত শ্রেয়স আইয়ারের ৬৭ ও ঋষভ পন্থের ৫১ রানে ভর করে ৩০৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। করুণারত্নেদের সামনে ৪৪৬ রানের লিড নিয়েছিল ভারত। হাতে সময় থাকলেও, তা কাজে লাগাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা বাহিনী। একটা গোটা গিনও ব্যাট করতে পারল না শ্রীলঙ্কা। গোটা টেস্ট সিরিজে এই প্রথমবার শুধু ২০০ রানের গন্ডী টপকাতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা।

এক উইকেট আগে খোয়ালেও, তৃতীয় দিন শুরুটা বেশ ভালভাবেই করেছিলেন দিমুথ করুণারত্নে এবং কুশল মেন্ডিস। প্রথম সেশনের বেশীরভাগ সময়টাই ছিল তাদের দখলে। মেন্ডিসকে নিয়ে বড় পার্টনারসিপ গড়ার লক্ষ্যেই এদিন নেমেছিলেন করুণারত্নে। সেই জুটি ভাঙার কাজটা এগদিন প্রথম করেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। আর তাঁর হাত ধরেই এদিন ম্যাচও ভারতের পক্ষে চলে আসে। অশ্বিনের পরই ম্যাথুজকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন জাদেজা। এরপরই ধনঞ্জয় ডিসিলভাকে প্যাভিলিয়নে ফেরান অশ্বিন। ভারতের জয় তখন কার্যত নিশ্চিত।

অধিনায়ক হিসাবে শেষ ১৭টি ম্যাচে জয়ের রেকর্ড রোহিত শর্মার

তবুও লড়াইটা একা চালিয়ে যাচ্ছিলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিমুখ করুণারত্নে। চা বিরতির পরও তিনিই একমাত্র টিকে ছিলেন। কিন্তু তাঁকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ ছিলেন সকলেই। সেঞ্চুরী করলেও, শেপর্যন্ত জসপ্রীত বুমরার কাছেই হার মানতে হয় তাঁকে। তিনি ১০৭ সালে সাজঘরে ফেরার পর থেকেই ভারতের জয় ছিল শুদু সময়ের অপেক্ষা। ডিনারের আগেই শ্রীলঙ্কাকে শেষ করে দেয় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে অশ্বিন একাই নেন ৪ উইকেট। তাঁর পাশে তিন উইকেট নেন জসপ্রীত বুমরাহ। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৩৮ রানে জিতে হোয়াইট ওয়াশ করার রেকর্ড গড় ফেললেন রোহিত শর্মা।

close whatsapp