নারিনের ১৩ বলে ৫০ রানের ঝোরো ইনিংসে বিপিএলের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

Sunil Narine
Sunil Narine. (Photo by MUNIR UZ ZAMAN/AFP via Getty Images)

প্লে অফে সুনীল নারিনের একটা ঝোরো ইনিংসই চট্টোগ্রামের সমস্ত আশা শেষ করে দিল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে রেকর্ড গড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ফাইনালে পৌঁছে দিলেন সুনীল নারিন। মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতরান করে এদিন ম্যাচের নায়কের তকমা নিজের গায়ে তুললেন এই তারকা ক্যারিবিয়ান তারকা। প্লেঅফে চট্টোগিরাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

আইপিএলে সুনীল নারিনের ব্যাটিং ঝলক আগেই পাওয়া গিয়েছে। একটা সময় তাঁকে দিয়ে কলকাটা নাইট রাইডার্স ওপেনও করিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সেভাবে নারিন ঝলক দেখা যায়নি। আসল জায়গাতেই সেই চমকটা দেখিয়ে দিলেন তিনি। বল হাতে এদিন তেমন কিছু করতে পারেননি। কিন্তু সেই অভাবটা ব্যাট হাতে পূরণ করে দিলেন এই ক্যারিবিয়ান তারকা। ১৬ বলে ৫৭ রানের একটা ঝোরো ইনিংস  খেলে সমস্ত হিসাব নিকাশ এদিন ভেস্তে দেন নারিন একাই।

টস জিতে এদিন প্রথম ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক। কিন্তু ব্যাট হাতে শুরুটা খুব একটা ভাল করতে পারেনি তারা। ৩৯ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপেই পড়ে গিয়েছিল চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। রান পাননি চ্যাডউইক ওয়ালটন, শামিম হোসেনরাও। ৫০ রানে এক সময় ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল তাদের। দাপটটা তখন থেকেই ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের।

তবে মেহিদী হাসান ও আকবর আলির পার্টনারশিপের হাত ধরেই খানিকটা ভদ্রস্থ জায়গায় আসতে পারে চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তাদের পার্টনারশিপ না হলে হয়ত এদিন ১০০ রানের গন্ডীও টপকাতে পারত না  চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। মেহিদি হাসান ফেরেন ৪৪ রানে। এবং আকবর আলি করেন ৩৩ রান। মেবিদি হাসান যখন সাজঘরে ফেরেন, সেই সময় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের রান ছিল ১৩৬। সেখান থেকে আর ১১ রান যোগ করেই শেষ হয়ে য়ায় চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ইনিংস।

১৩ বলে অর্ধশতরান করে বিপিএলের মঞ্চে ইতিহাস সুনীল নারিনের

প্লে অফের মঞ্চে কুমিল্লার সামনে তখন লক্ষ্য ১৪৯ রান। কম রানের লক্ষ্য হলেও কুমিল্লা যথেষ্ট সাবধানী ছিল। কারণ প্রতিপক্ষ শিবিরে ছিলেন বেনি হাওয়েল, মেহেদী হাসান এবং মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীদের মতো বোলাররা। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ফিরে যান লিটন দাস। শূন্য রানে এক উইকেট হারিয়ে প্রথমেই চাপে পড়ে গিয়েছিল কুমিল্লা। কিন্তু বল হাতে এদিন চট্টগ্রামের সাফল্য বলতে এটুকুই ছিল।

এরপর থেকেই মাঠে শুরু হয়েছিল সুনীল নারিন ঝড়। চট্টগ্রামের কোনও বোলারই এদিন তাঁর সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। একাই বিদ্ধস্ত করে দেন প্রতিপক্ষ শিবিরের বোলারদের। তাঁর চার, ছয়ের বন্যায় নাজেহাল হয়ে পড়েন চট্টগ্রাম বোলাররা। ১৩ বলে ৫০ রান করে বিপিএলের মঞ্চে ইতিহাস তৈরি করেন নারিন। ১৬ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি। তাঁর গোটা ইনিংসটি  সাজানো রয়েছে ৬টি ওভার বাউন্ডারি ও ৫টি বাউন্ডারি দিয়ে।

তিনি ফেরার পর কুমিল্লার অবশ্য জিততে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। ডুপ্লেসি ও মোঈন আলির হাত ধরে ৭ ওভার ১ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

close whatsapp