আইপিএল মেগা নিলামে যে তিনটি দলের নজর থাকবে শাকিব আল হাসানের দিকে

নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডারের ন্যূনতম মূল্য ২ কোটি টাকা

Shakib Al Hasan
Shakib Al Hasan. (Photo Source: IPL/BCCI)

বিশ্বক্রিকেটের সর্বফর্ম্যাট ক্রিকেটার শাকিব আল হাসান দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের এক নম্বর অলরাউন্ডার। টি-টোয়েন্টি হোক, টেস্ট হোক, বা ওডিআই; অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কে শাকিব সবসময় উপরের সারিতেই বিরাজ করেন। সারা বিশ্বের টি-টোয়েন্টি লিগ খেলে বেড়ানো শাকিব সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে ৪০০ উইকেট নেওয়া ষষ্ঠ বোলার হয়েছেন।

টি-টোয়েন্টিতে এই মুহূর্তে ৪০৮ উইকেটের মালিক শাকিব, ব্যাট হাতে মোট ৫৭১১ রান করেছেন। সম্প্রতি তাঁকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ফরচুন বরিশালের হয়ে খেলতে দেখা যাচ্ছে। গত মরসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএলে অংশ নেওয়া শাকিব ২০১১ থেকে আইপিএলের সঙ্গে জড়িত। দুই বছরের জন্য সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে খেলা শাকিব তাঁর বেশীর ভাগ আইপিএল ম্যাচ কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়েই খেলেছেন।

শাকিব ৭১টি আইপিএল ম্যাচে ৭৯৩ রান করার পাশাপাশি ৬৩টি উইকেট নিয়েছেন ৭.৪৩ ইকোনমি রেটে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে – ২০১২ ও ২০১৪ – দুটি আইপিএল শিরোপা জেতা শাকিবের দিকে স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজির নজর থাকবে। শাকিব নিজের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করেছেন ২ কোটি টাকা।

দেখে নেওয়া যাক আসন্ন আইপিএল নিলামে শাকিব আল হাসানকে দলে পেতে কোন তিনটি দল সবচেয়ে বেশী আগ্রহী হবে

১. পাঞ্জাব কিংস

পাঞ্জাব কিংসের বিগত কয়েকটি মরসুম জুড়ে প্রধান যে অভাবটি দেখা যাচ্ছে তা হল, মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটারের ঘাটতি। ওপেনাররা সিংহভাগ রান করে আসার পরেও মিডল অর্ডারে দীপক হুডা, শাহরুখ খান, সরফরাজ খানরা ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি। চাপের মুখে অনভিজ্ঞ ব্যাটাররা খেই হারিয়ে ফেলেছে।

এই সমস্যাটি দূর করার জন্য শাকিব কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারেন। ২০১২ আইপিএল ফাইনালে ছয়ে ব্যাট করতে নেমে শাকিবের স্বল্প কিন্তু প্রবল গুরুত্বপূর্ণ ৭ বলে ১১ রানের অপরাজিত ইনিংস কেই বা ভুলতে পারে। সেই সঙ্গে পাঞ্জাবকে পঞ্চম বোলার হিসেবে পার্ট-টাইমারদের উপর ভরসা করে থাকতে হবে না। তা ছাড়া পাঞ্জাব এখনও অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি। শাকিবকে দলে পেলে মোহালির ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে অধিনায়ক হিসেবেও ভেবে দেখতে পারে।

২. কলকাতা নাইট রাইডার্স

নাইটরা আইপিএলের ইতিহাসে যে তিনটি ফাইনাল জিতেছে, তার প্রত্যেকটি ম্যাচের একাদশে একটি নাম অপরিবর্তিত থেকে গেছে, সেটি হল শাকিব আল হাসানের নাম। নাইটদের প্রায় ঘরের ছেলে হয়ে যাওয়া শাকিবের জন্য কেকেআর এবারও দর হাঁকতে পারে। নাইট রাইডার্স সাধারণত দল গঠনে ধারাবাহিকতা রাখায় বিশ্বাসী। তাই ২০২১-এ আসরের অন্যতম বিশ্বস্ত বিদেশী ক্রিকেটারের আরও একবার বেগুনী জার্সিতে প্রত্যাবর্তন হতেই পারে।

গত বছর নাইটদের হয়ে ৮ ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন ৭.১৯-এর অসামান্য ইকোনমি রেটে। শাকিবকে দলে নিলে ফ্র্যাঞ্চাইজি আরও একটি সুবিধা পেতে পারে তা হল বাংলাদেশে তাঁর সমর্থক অসংখ্য এবং কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজির বাঙালী আবেগের সঙ্গে তাঁদেরকে একাত্ম বোধ করানো যাবে শাকিবকে দলে রাখলে।

৩. রাজস্থান রয়্যালস

রাজস্থান রয়্যালসে যতোদিন বেন স্টোকস ছিলেন, ততোদিন দলে তিনি একটি মজবুত ভারসাম্য আনতেন। মিডল অর্ডারে নেমে পরিস্থিতি বুঝে কখনও সময় নিয়ে গড়তেন, তো কখনও নেমেই বিস্ফোরক ব্যাটিং করতেন। সঙ্গে গুরুত্বুপূর্ণ ওভারে হাত ঘুরিয়ে বেশ কিছু উইকেটও পকেটে পড়তেন। চোটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্টোকসের থেকে রয়্যালস তেমন বেশী পরিষেবা না পাওয়ায় রিয়ান পরাগ বা মহীপাল লোমররকে অলরাউন্ডারের ভূমিকা দিত ফ্র্যাঞ্চাইজি, কিন্তু তাঁরা আশানুরূপ ফল দিতে পারেননি।

এই জায়গাটিতে শাকিব আল হাসানকে নেওয়া হলে তিনি মিডল অর্ডারে স্থিতিশীলতা দিতে পারবেন। সঙ্গে ৪ ওভারের নিশ্চয়তা। ওই চার ওভারে তিনি বেশী উইকেট না তুললেও রান চেপে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। শাকিবের আরও একটি ভালো গুণ হল তিনি পাওয়ারপ্লেতেও বোলিং করার ক্ষমতা রাখেন। এ ছাড়া তরুণ অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন অভিজ্ঞ শাকিবের থেকে চাপের সময় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও আশা করতে পারেন।

close whatsapp