বোলিং অ্যাকশনের জন্য নির্বাসিত পাক বোলার মহম্মদ হাসনেইন

Mohammad Hasnain
Mohammad Hasnain. (Photo by David Davies/PA Images via Getty Images)

পাকিস্তান শিবির সহ পাকিস্তান সুপার লিগের কোয়াত্তা গ্ল্যাডিয়েটর্স, দুই দলেই ধাক্কা। নিয়ম বহির্ভূত বোলিং অ্যাকশনের জন্য অনির্দিষ্ট কালের জন্য নির্বাসিত  তরুণ পাক পেসার মহম্মদ হাসনেইন। যদিও বোলিং অ্যাকশন বদলে খুব শীঘ্রই তাঁর বাইশগজে ফেরার ব্যপারে আশাবাদী সকলেই। শুক্রবার সকালেই পাকিস্তান  ক্রিকেট বোর্ডের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁকে নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একইসঙ্গে প্রথমদিকে খেললেও, পাকিস্তান সুপার লিগেও আর নামতে পারবেন না এই তরুণ পেসার।

বিগব্যাশ লিগে প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করেছিলেন এই তরুণ বোলার। যদিও নজর কেড়েছিলেন তার আগেই ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে। সেখানে ১৫৫ কিমি বেগে বল করতে দেখে সকলেই চমকে গিয়েছিল। এরপরই তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল বিগব্যাশ লিগে। সেখানে সিডনি থান্ডারের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু পাঁচ ম্যাচ বোলিং করার পরই তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকে। শুরু হয়েছিল নানান জল্পনাও।

একটানা ১৪৫ কিমি বেগে বল করার দক্ষতা রয়েছে পাকিস্তানের তরুণ বোলারের। বিগব্যাশ গিলেও সেই পরিচয় দিয়েছেন তিনি। কিন্তু আইসিসির নিয়ম মেনে বোলিং করছেন না তিনি। তাঁর বোলিং অ্যাকশন দেখেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন আইসিসি কর্তা থেকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কর্তারা। এরপরই ১৯ জানুয়ারী অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়। যদিও রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগেই দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল তাঁকে।

তখনই ঠিক হয় লাহোরে আইসিসির ল্যাবে পরীক্ষা নীরিক্ষা হবে তাঁর। আর সেই পরীক্ষাতেই মহম্মদ হাসনেইনের নিয়ম বহির্ভূত বোলিং অ্যাকশন ধরকা পড়ে। এরপরই আইসিসির নির্দেশ অনুসারে তাঁকে আপাতত নির্বাসনে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। যদিও এই সমস্যা তাঁর মিটে যাবে বলেও দাবী করেছে পাক ক্রিকেট বোর্ডয।

এবারের পিএসএলে কোয়েত্তা গ্ল্যাডিয়েটর্সে ছিলেন মহম্মদ হাসনেইন। শুরু দিকে ম্যাচ খেলতে পারলেও, আপাতত তিনি সেখানেও খেলতে পারবেন না। আইসিসির নিয়মন অনুযায়ী বোলিংয়ের সময় কনুইয়ের ব্যবহার একটা মাপ পর্যন্তই করা যায়। কিন্তু মহম্মদ হাসনেইন বোলিংয়ের সময় সেই নিয়মই ভেঙেছে। আর সে কারণেই নিয়ম বহির্ভূত বোলিং অ্যাকশনের জন্য তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাঁর পাশেই রয়েছে। এমন বোলারকে তারা কখনই হারিয়ে যেতে দেবে না। ইতিমধ্যেই তাঁকে পাকিস্তান বোলিং এক্সপার্টরা কাজও শুরু করে দিয়েছেন। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের জার্সিতে অভিষেক হয় এই তরুণ ক্রিকেটারের। ৮টি একদিনের ম্যাচ ও ১৮টি টি টোয়েন্টি ম্যাচও খেলা হয়ে গিয়েছে তাঁর।

বোলিং অ্যাকশনের জন্য এর আগেও সাসপেন্ড হয়েছেন মুরলীথরণ, সুনীল নারিনরা। এবার সেই তালিকায় মহম্মদ হাসনেইনও। এখন শুধু দেখার বোলিং অ্যাকশন বদলের পরও সেই গতি মহম্মদ হাসনেইন ধরে রাখতে পারে কিনা।

close whatsapp