বুমরাহ, সামিদের হাত ধরে দ্বিতীয় দিনের শেষে ফ্রন্টফুটে ভারত, অপেক্ষা বড় লিডের
আপডেট করা - Jun 14, 2023 7:19 pm

প্রথম দিনটা যদি প্রোটিয়া বোলারদের হয়ে থাকে, তবে দ্বিতীয় দিন কেপটাউনে দাপট দেখালেন ভারতীয় পেসাররা। ভরসা যোগাচ্ছিলেন তারাই। দ্বিতীয় দিনের শেষে সেই বোলারদের হাত ধরেই ম্যাচে ফিরল ভারত। বুমরার পাঁচ উইকেটের সৌজন্যে কেপটাউনে বিধ্বস্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিং লাইনআপ। ভারতের ২২৩ রান টপকাতে ব্যর্থ ডিন এলগারের দল। ২১০ রানেই শেষ প্রোটিয়া বাহিনী। দিনের শেষে ভারতের রান ২ উইকেটে ৫৭। দ্বিতীয় দিনের শেষে খানিকটা স্বস্তিতে টিম ইন্ডিয়া। লিড ৭০ রানের।
প্রথম ইনিংসে লক্ষ্যটা ছিল ৩০০ রানের। কিন্তু তা পারেননি বিরাট কোহলিরা। মাত্র ২২৩ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল ভারতের প্রথম ইনিংস। কেপটাউনে চিন্তাটা মাথায় নিয়েই দ্বিতীয় দিন নেমেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ক্রিজে তখন ছিলেন কিগান পিটারসন এবং মার্করাম। ম্যাচে নিজেদের দাপট বজায় রাখতে হলে এদিন দরকার ছিল একটা দুর্ধর্ষ বোলিং পারফরম্যান্স। প্রথম ম্যাচ থেকেই ভারতের ভরসা তারা। এদিনও নিরাশ করেননি দ্রাবিড়, কোহলিদের।
খানিকটা স্বস্তি রয়েছে ভারতীয় শিবির
দিনের শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। মার্করামকে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি প্রথম ধাক্কাটা দেন দ্বিতীয় দিন। সঙ্গে যোগ্য সঙ্গদ মহম্মদ সামি এবং উমেশ যাদবেরও। বহুদিন পর ভারতীয় দলে ফিরলেও তাঁর ঝাঁঝ যে এখনও কমেনি তা বুঝিয়ে দিতে পেরেছেন উমেশ যাদবও। কিগান পিটারসনকে বাদ দিলে ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে কেউই এদিন সেভাবে কোনওরকম প্রতিরোধ করতে পারেননি।
পিটারসন মাটি কামড়ে পড়ে থাকলেও, অন্যদিকের ব্যাটারদের সহজেই সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা। নাইটওয়াচম্যান হিসাবে নামলেও এদিন পিটারসনের সঙ্গে ভাল পার্টনারশিপ গড়ছিলেন কেশব মহারাজ। বোলিং চেঞ্জে এসে সেই পার্টনারশিপ ভাঙেন উমেশ যাদব। এরপরের ধাক্কাটাও তিনিই দেন। ফান ডার ডাসেনকেও সাজঘরে ফারন উমেশই।
যদিও তখনও পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হতে পারেননি ভারত অধিনায়ক। কারণ ক্রিজে রয়েছেন পিটারসন ও তেম্বা বাভুমা। সেই জুটি ভাঙার দায়িত্ব নেন মহম্মদ সামি। স্লিপে দুর্ধর্ষ ক্যাচ বিরাট কোহলির। ফিরে যেতে হয় বাভুমাকে। তখনও একাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন কিগান পিটারসেন। কিন্তু বুমরার গতির এদিন কোনও জবাব ছিল না তাঁর কাছে। এদিন প্রোটিয়াদের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরেয়ে ভারতীয় শিবিরকে নিশ্চিন্ত করেন তিনি।
এরপর বাকি ব্যাটাররা ছিলেন সকলেই ক্ষণিকের অতিথি। একাই ৫ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভারতের সামনে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেন বুমরাহ। তাঁর শিকার এলগার, মার্করাম, পিটারসেন, জ্যানসেন এবং এনগিডি। ২০১৮ সালে এই মাঠেই অভিষেক হয়েছিল বুমরার। ৪ বছর পর সেই মাঠেই ভারতের খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর নায়ক তিনি।
প্রথম ইনিংসে কম রানে অল আউট হলেও, বোলারদের হাত ধরে ১৩ রানের লিড পায় ভারত। যা এমন পরিস্থিতিতে বিরাট প্রাপ্তি বলা যেতেই পারে। সেই অবস্থায় ব্যাট করে নেমে আবারও ভারতের ওপেনিং জুটি চূড়ান্ত ব্যর্থ। রাহুল ফেরেন ১০ রানে এবং আগরওয়াল থামেন ৭ রানে। তবে সেই জায়গা থেকে হাল ধরেন কোহলি ও চেতেশ্বর পুজারা। তাদের হাত ধরে এখন বড় লিডের অপেক্ষায় সকলে। দিনের শেষে ভারতের রান ২ উইকেটে ৫৭, লিড ৭০ রানের।