আইপিএল মেগা নিলামে যে তিনটি দলের নজর থাকবে প্যাট কামিন্সের দিকে

শেষবার যখন নিলামে উঠেছিলেন, তখন কামিন্সকে ১৫.৫০ কোটি টাকায় কিনেছিল কেকেআর

Pat Cummins
Pat Cummins. (Photo Source: IPL./BCCI)

তিনটি ফর্ম্যাটেই ধারাবাহিকভাবে যে গুটিকয়েক পেসার পারফর্ম্যান্স দেখিয়ে আসছেন তাঁদের মধ্যে প্যাট কামিন্সের নাম অবশ্যই থাকবে। গত নভেম্বরেই অস্ট্রেলিয়াকে তাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি তোলার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্যাট কামিন্স গত দুটি সংস্করণে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২০-র আইপিএলের আগের নিলামে ১৫.৫০ কোটি টাকায় তাঁকে কিনেছিল কেকেআর।

বল হাতে তিনি যে পরিমাণ অবদান রাখতে সক্ষম, সেই অবদান কেকেআর তাঁর কাছ থেকে পায়নি বলে বেশ কিছু ম্যাচে বিদেশী ফাস্ট বোলার হিসেবে কেকেআর লকি ফার্গুসনকে নির্বাচন করেছে। তবে ব্যাট হাতে লোয়ার অর্ডারে নিজের অলরাউন্ড দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন কামিন্স। কেকেআরের হয়ে গত দুই মরসুমে ২১ ম্যাচে ২১টি উইকেট নিয়েছেন কামিন্স, গড় ৩০.৭৬। ব্যাট হাতে ২৩৯ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১৪০.৫৯।

কামিন্স সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের অধিনায়ক হয়েছেন এবং দেখিয়েছেন তাঁর মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ বিদ্যমান। একজন আগাগোড়া টিম-ম্যান কামিন্স দলের জন্য সবসময় নিজের সর্বস্ব দেন। একাধিক গুণে সমৃদ্ধ কামিন্স নিজের ন্যূনতম মূল্য রেখেছেন ২ কোটি টাকা। তাঁকে নিতে বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধা করবে না।

দেখে নেওয়া যাক আসন্ন আইপিএল নিলামে প্যাট কামিন্সকে দলে পেতে কোন তিনটি দল সবচেয়ে বেশী আগ্রহী হবে

১. সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ

হায়দ্রাবাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি বিগত কয়েক মরসুম ধরেই একজন বিদেশী ফাস্ট বোলারের অভাবে ভুগছে। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের ভরসা রাখতে হয়েছে ভারতীয় পেসারদের দিকে, যাঁরা আশানুরূপ বোলিং করেননি। তাও এতো দিন রশিদ খানের মতো লেগ স্পিনার ছিল তাদের দলে, যাঁর উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যেত। কিন্তু এখন তিনিও দল পরিবর্তন করায়, উইকেট নেওয়ার মতো একজন যোগ্য বোলার খুঁজতে হবে এসআরএইচকে।

প্যাট কামিন্স হতে পারেন সেই বোলার যাঁর উপর দলের পেস বিভাগকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দিতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিগত চার মরসুমে বিলি স্ট্যানলেক ও জেসন হোল্ডার ছাড়া আর তেমন উল্লেখযোগ্য বিদেশী পেসারকে দলে নেয়নি হায়দ্রাবাদ। এই বছর ফ্র্যাঞ্চাইজি অবশ্যই চায়বে সেই ভুল শুধরে নিতে। উমরান মালিকের মতো আনকোরা পেসারকে ধরে রেখেছে এসআরএইচ। কামিন্স এলে, তাঁর কাছ থেকে শেখার ভালো সুযোগ পাবেন উমরানের মতো প্রতিভাবান পেসাররা।

২. মুম্বই ইন্ডিয়ান্স

আইপিএলের সবচেয়ে সফল দল মুম্বই ইন্ডিয়ায়ন্স বরাবর তারকা বিদেশী পেসার দলে রাখার ব্যাপারে পরিচিত। দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত শ্রীলঙ্কার পেসার লাসিথ মালিঙ্গা যখন কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েছিলেন তখন মুম্বইয়ের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিলেন কিউয়ি পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। এ ছাড়া তারা প্রায়শই তাদের প্রথম একাদশে একাধিক বিদেশী পেসার খেলানোর পক্ষপাতী। তাই কখনও না কখনও দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান, জেমস প্যাটিনসন, নাথান কুল্টার-নাইলের মতো পেসাররা।

তাই স্বাভাবিকভাবেই নিলামে প্যাট কামিন্সের দিকে নজর রাখবে মুম্বই। কামিন্সকে দলের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে জসপ্রীত বুমরাহর সঙ্গে একটি ঘাতক পেস-জুটি গরে তুলতে পারবে ফ্র্যাঞ্চাইজি। এ ছাড়া শোনা যাচ্ছে যে আসন্ন সংস্করণের বেশ কিছু ম্যাচ হবে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, যে মাঠটি ছোট হওয়ার কারণে ছক্কার প্রদর্শনীর জন্য প্রসিদ্ধ। এখন যেহেতু হার্দিক পান্ডিয়া দল ছেড়ে আহমেদাবাদের দলে যোগ দিয়েছেন, তাই লোয়ার অর্ডারে কামিন্সকে পেলে তিনি এই ছোট মাঠের সুবিধা নিয়ে বেশ কিছু রান যুক্ত করতে পারেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের স্কোরে।

৩. কলকাতা নাইট রাইডার্স

কলকাতার হয়ে কামিন্স বোলার হিসেবে ঘাতক না হয়ে উঠলেও দলের একজন নির্ভরযোগ্য সদস্য ছিলেন এবং তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতা দলকে সবসময়ই একটি ভারসাম্য দিত। কেকেআর তাদের দলে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা পছন্দ করে, ফলে দুই মরসুম ধরে তাদের হয়ে খেলা কামিন্সকে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী হবে। শেষবার কামিন্সকে নিতে তারা ১৫.৫০ কোটি টাকা খরচ করায় বোঝা যায় যে কামিন্সের প্রতিভার প্রতি তাদের কতটা আস্থা রয়েছে।

এই মরসুমে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আইপিএলের ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও আগামী মরসুমে নাইটরা তাদের হোম ম্যাচ ইডেনেই খেলতে পারে। সেখানকার গতিময় পিচে কামিন্সের ১৪০ কিমির উপরে বোলং করার ক্ষমতা দলের কাজে আসতে পারে।

close whatsapp